Select Page

বিরহপত্র

বিরহপত্র

কথা ছিল , চিঠি দেব। প্রেমপত্র লিখব।

কোন বাঙালী নারীকে ভালবেসে, প্রেমপত্র, আগে কখনো লিখিনি। আসলে লেখা হয়ে উঠেনি।এবারও হল না।  অনেক চেষ্টা করেও প্রেমপত্র নয়, লিখতে হল আজ বিরহপত্র।

প্রেমপাখি,
নিজের উচ্ছ্বাস প্রকাশ করার শব্দের বাগানে গিয়ে দেখি, একটি শব্দও নেই, সব বলা হয়ে গেছে। কিন্তু যা হারিয়ে যায়নি, তা আমার ভেতরের ঝড়।
তোমার মুখচ্ছবি ভেসে উঠলেই, ঝড়ের বেগ বাড়তেই থাকে। তখন নিজেকে সামলে রাখা বড় কঠিন হয়ে পড়ে।
আরো, আরো নিভৃতে না -পাওয়ার দীর্ঘশ্বাসে যখন মন ভার হয়ে আসে, তখন মনে মনে বলি- “ওগো যা পেয়েছি সেইটুকুতে খুশি আমার মন”।
মানুষ বেঁচে থাকার জন্য নানাভাবে নিজেকে বুঝ দেয়, আমিও দেই।
এক অসম্ভবকে ভালবেসে, নয় হাজার মাইল পথ পাড়ি দিয়ে, মনে হয়েছিল, ভুল করিনি।

মনে হয়েছিল-
তোমার হাত ধরে এই এক জনম পার করে দেবার ভাগ্যের দুয়ার যদি খুলে যায় কোনদিন, প্রকৃতির দোহাই, আমি হয়ত পাগল যাব।
এমন একটি স্বপ্নকে বুকে ধারণ করে বেঁচে থাকার যে অপার্থিব আনন্দ, যে ধারণ করেছে সে-ই জানে।
আবারো বলছি, বুকের ভেতরের কাঁপুনি ছাড়া আর কিছু অনুভব করতে পারছি না।
কেমন করে নিজের অব্যক্ত ভাব ব্যক্ত করব – জানা নেই।
শুধু মনে হয়-
“কোনকিছু করে খ্যাতিমান হওয়ার চেয়ে প্রেম করে বেঁচে থাকা অধিক আনন্দের।”
এই আনন্দস্রোতে তোমাকে নিয়ে অবগাহন করা কি কেবলি এক স্বপ্ন হয়ে রয়ে যাবে?
আসুক না, বিশাল বড় এক ঢেউ। নিক, ভাসিয়ে নিয়ে যাক দু’জনকে।
” তোমার ঘুমন্ত ঠোঁটের ওপর
ঠোঁট রেখে আমিও ঘুমিয়ে যাব
চিরতরে।
না, এ কাব্যকথা নয়। মরণ তো একদিন না একদিন আমাদের স্পর্শ করবে। সেই স্পর্শ-মুহুর্তে যদি আমাদের অক্ষয় প্রেম সামনে এসে দাঁড়িয়ে বলে উঠে, প্রেমহীন মৃত্যু কাম্য নয়।
তখন?
তখন ঐ মুহূর্তকে ব্যক্ত করার সকল দুয়ার বন্ধ হয়ে যায়। থাকে অপেক্ষা। গভীর এক আলিঙ্গনের অপেক্ষা।
কিন্তু আমাদের অনুভূতি, আকাঙ্খা, রাগ-অনুরাগ, মান-অভিমান, স্বপ্ন আর বাস্তবতা চলে ভিন্ন পথে, ভিন্ন এক বাস্তবতায়। যার দায় হয়ত কারোই নেই। মনে হয় এ কেবলি ভ্রম।
নিজের ইচ্ছের বিরুদ্ধে জীবনকে ধারণ করেও মানুষ বেঁচে থাকে, আমরাও থাকি। তখন মনে হয় এই চাওয়া-পাওয়ার বিষবৃত্ত থেকে বেরিয়ে যাওয়াই শ্রেয়।
আর যাই হোক মিলনের যে তীব্র আকাঙ্খা, তার বেদনার ভার আর বইতে হবে না।
তারচেয়ে ভাল, যাবার আগে বলে যাই, তোমাকে ভালবেসে কোন পিছুটান রাখিনি, ছিল না।
তুমিও ভালবেসেছিলে, সবটুকু দিয়েই। কিন্তু পিছুটান তোমাকে ছাড়ল না। এ তোমার দোষ নয়। অক্ষমতা। এই অক্ষমতার দোষে শুধু তুমি নও, কম বেশি আমরা সবাই দুষ্ট।
তোমার পরিস্থিতিতে থাকলে আমিও হয়ত, তোমার মতই আচরণ করতাম।
যে প্রেম এসেছিল ঝড়ো হাওয়ার মত করে, যাক না সে হারিয়ে, উল্টোঝড়ে।
আমাদের কিছু স্পর্শ, কিছু আদর, নিজেকে উজাড় করে দেয়া – হয়ে যাক স্মৃতি। সুখ স্মৃতি।
সেই স্মৃতিকে অক্ষত করে রাখার জন্য এসো, বর্তমানকে দাঁড় করিয়ে দিই, সব হারাবার এক নতুন আলোয়।
আমাদের আর প্রেম নেই, আছে স্মৃতি কেবলি স্মৃতি।
এটা কতটা অভিমানের, কতটা সত্য, এই মুহুর্তে বলা কি সম্ভব?

কোথায় যেন একটা অভাব প্রকট হয়ে দেখা দেয়। নিজেকে দোষারূপ করি। বলি, এ আমার মনের ভ্রম।
*
এক একটি রাত কি পাথরের মত,
আর দিনগুলো রাত্রির
দিন ও রাত্রির কাব্যে
কবিতা, তুমি কোথায়?
দেখা হবার কথা ছিল। হয় নি।
কংক্রিটের উড়াল পথের নীচ দিয়ে হাঁটতে হাঁটতে যদিও আমার দম বন্ধ হয়ে আসছিল, তবুও হাঁটছিলাম।

উন্নয়নের নামে বসতির অযোগ্য একটি কংক্রিটের শহর গড়ে তোলা হয়েছে, যার নাম ঢাকা, যেখানে শ্বাস নেবার মত বাতাসটুকু পর্য্যন্ত নেই।
তুমি এসেছিলে বটে, না এলেই ভাল হতো। সাংসারিক ব্যস্ততায় একটা মানুষ হঠাৎ কতটা অচেনা হয়ে যায়, ভাবছিলাম।

যখন যার সাথে সঙ্গ, তখন তার প্রেমিক/প্রেমিকা হয়ে ওঠা সবাই পারে না, কেউ কেউ পারে যারা পারে, তারা কি ভাগ্যবান বা ভাগ্যবতী?
এরকম গুণে গুণান্বতিরা কি বিরল?

আমার ঝুলিতে আর কোন কথা নেই, সব ফুরিয়ে গেছে।
এখন অন্যের কথা শুনি, ভাল লাগলে লাইক দিই, মন্তব্য করি।
সময় কাটাবার আর কোন পথ নেই বলেই কি ফেইসবুকে পড়ে থাকা, নাকি এও এক নেশা? দৃষ্টি আকর্ষণের । প্রেমিকার দৃষ্টিতে থাকার আকুলতার মত।

আমার শরীরের মাথা নুয়ে
থাকলেও, মনের মাথা উঁচু
হয়ে থাকে। ভিক্ষা নয়,
কপালে কড়া নাড়ে প্রেম।

হাঁটতে হাঁটতে ক্যাম্পাসের ভেতরে চলে আসতেই চোখে পড়ল, অচেনা এক ক্যাম্পাস। বড়সড় মাদ্রাসা হয়ে গেল কেমন করে?

বিনা পরিশ্রমে নানা প্রকার বিশ্বাসের বিষ বিক্রি করে, আরাম আয়েসে থাকা গেলে সেই বিশ্বাসকে রক্ষা করার জন্য কেন অনুসারী গড়ে তোলা হবে না?
বিভিন্ন ধর্ম্মীয় প্রতিষ্ঠানগুলো হল, বিশ্বাসের অনুসারী গড়ে তোলার কারখানা।
যেখানে কারখানা, সেখানেই মুনাফা, তা যে নামেই হোক।
ঢাবিও কি সেই রকম একটি কারখানা হয়ে গেল?

মধ্যরাত
মান রক্ষা করতে না পারলে, প্রেম করে বিয়ে করা ঠিক না।
তারচেয়ে ভাল একজন অপরিচিতকে বিয়ে করা।
কলহে দুঃখ থাকলেও, লজ্জা থাকবে না।

মধ্যরাতে ঘুম না এলে মানুষ দার্শনিক হয়ে যায়।

তোমাকে ভালবাসি বলেই, খুব রেগে থাকি।
কারণ আর কিছু নয়, তোমার দু’টানা মন।
মূলতঃ তুমি দুই নৌকার যাত্রী।

যোগী নই,

তবুও চতুর্থ প্রহরে
জেগে থাকা
এর নাম কি ভালবাসা?

যত দেখছি তত অচেনা মনে হচ্ছে।

কে, কখন, কাকে কীভাবে হারায় – নিজেও হয়ত জানে না। কে, কখন কোন কাননে ফুটবে, তা কে জানে?

এমন কোন সম্পর্কে জড়ানো ঠিক নয়, যার শুরুতেই বিরহ।

ভালবাসার নামে আমরা চাই একটুখানি বিশ্বাস, যেখানে শ্বাস নিতে পারব।

তুমি একখানি প্রেম পত্র লিখতে বলেছিলে। আমি লিখিনি।
তারমানে এই নয় যে ইচ্ছে জাগেনি।
আমি যখন তোমাকে দেখেছিলাম অন্তরঙ্গে, ভেবেছিলাম, এ ভালবাসার এক সমুদ্রই বটে। কিন্তু ঘাটে এসে তরী ভিড়লেই তুমি কেমন এক অচেনা মানুষ হয়ে যাও। কোনভাবেই তোমাকে আর চেনা যায় নয়া।
পথ চলতে চলতে দেখতে পাই সেখানে আমি নেই, অন্য কেউ।
না, এ দোষের কিছু নয়, বরং বলা চলে অহংকার করার মত, প্রম যে কত ঠুনকো তা প্রকট হয়ে পড়ে, পাড়ে এসে।
মনে হয় নদীতেই প্রেম ভাল।
নিজেকে মানিয়ে নিতে না পারার এই ব্যর্থতা আমার, তোমার নয়- এও জানি।

আনন্দ কিংবা দুঃখের অপর নাম স্মৃতিও বটে।

সম্পর্কের প্রশ্নে-
অন্যের দিকে আঙ্গুল তোলার আগে, নিজের দিকে তাকানোই শ্রেয়।

ভালবাসা পেতে হলে একটা কিছু তো থাকা চাই।
কাছে এসে এই নিজেকে নতুন করে প্রতিদিন জানছি।
এটা দরকার ছিল, খুব দরকার।

কিছু কিছু কথা যতটা না অন্যকে জানান দেয়ার জন্য বলা হয়, তারচেয়ে বেশি নিজেকে ভবিষ্যতে দেখার জন্য।
মুখোমুখি না হলে অনেক সত্য আড়ালেই পড়ে থাকে।

রাতের শেষ প্রহর

রাতকে সুখে রাখার জন্য কাউকে না কাউকে তো জেগে থাকতেই হয়।
আমি জেগে আছি হে রাত,
তুমি দুঃখ কর না।

এখানে জানালা খুলে আকাশ দেখার কোন সুযোগ নেই। চার দেয়ালে যেন বন্দী , আধুনিক শহুরে মানুষ।
যে শহরে আমার বেড়ে ওঠা
হাজারো স্মৃতির পাহাড়
সব, সব চাপা পড়ে আছে
কংক্রিটের পাহাড়ের নিচে।

নয়া বাস্তবতা

ফুটপাতে বসে চা পানের দিন গত হয়ে গেছে জানলাম দেশে এসে।

সূর্যোদয়

এমন কেউ হয় না যার সাথে রাত জেগে সূর্যোদয় দেখি।

এরকম পরিস্থিতিতে আশাভঙ্গ হেতু একটু কাব্য ভাব আসতেই পারে।
*
ভালবাসা কোন রণক্ষেত্র নয়
কুরুক্ষেত্র তো নয়ই
তুমি নিশ্চিন্তে
বৃন্দাবন ত্যাগ করতে পার।

*
ভালবাসার মানুষ যখন
শেখ সাদীর পোশাক গল্পের
নায়ক হয় তখন
প্রেম নয় ভয় হয়।

*
যে, যেমন তাকে তার মত
থাকতে দেয়ার নাম
হয়ত ভালবাসা নয়
হতে পারে প্রেম।
*
আমি একা কাঁদব কেন?
তুমিও কাঁদো
দু’জনার কান্নায়
হোক না এক নদী!

*
দুঃখের জোয়ার না এলে
মরে যায় শব্দের স্রোত
তখন ভাবনাগুলো যেন
মরুভূমি হাওয়ায় পোড়ে।

নিজের মান না থাকলেই অন্যকে অপমান করা যায় খুব সহজে।অনেককিছু বলতে না পারার কারণে মনে হতো, অপমান তোমার প্রাপ্য নয়। ভক্তিতে ছুঁয়েছি যে-শরীর, শত তিক্ততার মাঝেও যেন সম্মানটুকু অটুট থাকে। বিচ্ছেদেও।

ভালবাসাবাসি ছাড়া জীবন পার করার মন্ত্র জানা থাকলে ভাল হতো।
তখন হয়ত রাগ, দুঃখ, অভিমান, এবং ভুল বোঝাবুঝির জায়গা কমে আসত।
ভালবাসায় সুখ যতটুকু কষ্টও কিন্তু কম নয়।

প্রেম ছাড়া মানুষ বাঁচে কেমন করে?

স্বপ্নভঙ্গ
*
অতি আবেগে মরে যায়
সঙ্গম
মোহনায় তখন জেগে থাকে
বিরহ।

সান্ত্বনা
আমরা মূলতঃ বাস করি কল্পনায়,স্বপ্নে বিনয়ী হওয়ার ভালর চেয়ে বিপদ বেশি।
তবুও বিনয়ী হওয়াটাই কাম্য।

নিজের সাথে আলাপ

ঘোর –
বিপদজনক, বড় বেশি বিপদজনক। এটা অনেকটা এক পাক্ষিক। আর একপাক্ষিক হলে মোহভঙ্গ হয় না সহজে।
সত্যাসত্য জানার জন্য কষ্টকর বাস্তবতার মুখোমুখি হওয়াই শ্রেয়।

*
হৈচৈ করে বেঁচে থাকা মানুষেরাও এক সময় একা হয়ে যায়।
সঙ্গ যাপনে অভ্যস্ত মানুষেরা নিঃসঙ্গ মানুষদের বেদনা অনুভব করতে পারে না।

কোন একটি নির্দিষ্ট বাস্তবতার মুখোমুখি হতে হলে, তার আগে মানসিক প্রস্তুতি খুব গুরুত্বপূর্ণ।

*
কোনকিছু করে খ্যাতিমান হওয়ার চেয়ে প্রেম করে বেঁচে থাকা অধিক আনন্দের।

আমাদের অনেকগুলো ইচ্ছে এতটাই বাস্তব, কিন্তু বিদ্যমান কাঠামোতে অধরা।
স্বপ্নেও ধরা দেয় না।

প্রাণপাখি
বিচ্ছেদের, বিরহের যাত্রা যত দীর্ঘ আর ক্লান্তিকর হোক না কেন, তবুও তুমি রয়ে যাবে সেই প্রথম চুমুর মত।

কে,কতটা অসুস্থ মুখ্য নয়,
জেনো, কেউ একজন
মৃত্যুমুখে পতিত হলেও
মৃতসঞ্জীবনী চুমু যেন হয়ে ওঠে
বিদায় বেলার সঙ্গীত।

২ Comments

  1. গীতা দাস

    খুব ভালো লেগেছে। ‌ অভিভূত! কবিতা পড়লাম না গদ্য ? বুঝলাম না! লেখাটি ঘোর লাগিয়ে দিয়েছে।

    Reply
  2. স্বপন মাঝি

    সেই মুক্তমনায় লেখার সময় থেকেই আপনি বরাবরই আমাকে উৎসাহ দিয়ে এসেছেন, দিদি। আপনার মন্তব্যের গুরুত্ব আমার কাছে অনেক বেশি।

    Reply

মন্তব্য করুন

Subscribe to Blog via Email

Enter your email address to subscribe to this blog and receive notifications of new posts by email.

Join 4 other subscribers

সংরক্ষণাগার

%d bloggers like this: